মোঃ এমরান, লামা (বান্দরবান):

বান্দরবানের লামা পৌর শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকায় শত বছরের পুরনো লামা কেন্দ্রীয় শ্মশানটি এখন বিলীনের পথে। একদিকে মাতামুহুরী নদী, অন্যদিকে পাহাড়ি নুনার ঝিরির ভাঙনে দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে শ্মশানটির আয়তন। এতে পৌর এলাকার প্রায় ৬০০ সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের শেষকৃত্য সম্পন্নের একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থানটি পড়েছে অনিশ্চয়তার মুখে।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ, শ্মশান সংস্কার, সীমানাপ্রাচীর ও লাইটিং ব্যবস্থা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর আগে মাতামুহুরী নদীর পাড় ও নুনার ঝিরির শেষ প্রান্তে প্রায় ৪০ শতক জায়গার ওপর লামা কেন্দ্রীয় শ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌর এলাকায় অন্য কোনো শ্মশান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মৃতদেহ দাহের প্রধান স্থান হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নুনার ঝিরি ও মাতামুহুরী নদীর পানির স্রোতে শ্মশানের পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে প্রায় ৪০ শতকের জায়গা কমে ১৫ শতকের মতো অবশিষ্ট রয়েছে। ইতোমধ্যে শ্মশানের বেশ কিছু অংশ ও বহু সমাধিস্থল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্মশানের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের চিহ্ন রয়েছে। ঝিরি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে দাহ ও সমাধিস্থলের জায়গায় পানি উঠে যায়। এমনকি শ্মশানের ঘরেও পানি ঢুকে পড়ে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মৃতদেহ দাহ করতেও নানা সমস্যায় পড়তে হয় স্বজনদের।

শুধু ভাঙন নয়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে শ্মশানটির অবকাঠামোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নেই পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বেষ্টনী। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় আলো না থাকায় শ্মশানটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডাও বসে।

লামা কেন্দ্রীয় শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি অলক কান্তি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক বাসু কর্মকার বলেন, প্রায় ১০০ বছর আগে শ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের কারণে এর বড় একটি অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। আগামী বর্ষার আগে শ্মশানের উত্তর ও পূর্ব পাশে প্রায় ২০০ ফুট রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে অবশিষ্ট অংশও বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা আরও বলেন, শ্মশানের নিরাপত্তার জন্য বাউন্ডারি ওয়াল ও লাইটিং ব্যবস্থা এবং মৃতদেহ রাখার জন্য একটি লাশঘর নির্মাণ প্রয়োজন। দ্রুত এসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

লামা বাজারের ছোট নুনারবিল এলাকার বাসিন্দা খগেশ্বর চন্দ্র খোকন বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই শ্মশানের সঙ্গে। এখানে ধর্মীয় রীতি মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এখন শ্মশানটিই হারিয়ে যাওয়ার পথে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রবীণ সনাতন ধর্মাবলম্বী অমর কান্তি চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে শ্মশানের পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়িও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন বলেন, লামা কেন্দ্রীয় শ্মশানটি ঝিরিতে বিলীনের বিষয়টি তাকে কেউ জানায়নি। তবে পৌর প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত জেনে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।